১২১/৩ নবাবপুর রোড, ঢাকাশনি–বৃহস্পতি · সকাল ৯:৩০–সন্ধ্যা ৭টা · শুক্রবার বন্ধ
কেনার গাইড

কীভাবে ওয়েল্ডিং মেশিন বেছে নেবেন

সঠিক ওয়েল্ডিং মেশিন নির্ভর করে আপনি কোন পদ্ধতিতে কাজ করেন, কোন ইলেকট্রোড বা ওয়্যার ব্যবহার করেন, কাজের জায়গার বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বিরতি ছাড়া কতক্ষণ ওয়েল্ড করেন তার উপর। কেনার আগে যা দেখবেন তা নিচে দেওয়া হলো — অথবা কাজটি আমাদের জানান, আমরা মেশিনের পরামর্শ দেব।

১. পদ্ধতি বেছে নিন

ARC / MMA (স্টিক)
কোটেড ইলেকট্রোড (রড) দিয়ে ওয়েল্ড করে। সহজ, বহনযোগ্য এবং মরিচা ও বাতাসেও কাজ করে, তাই ফ্যাব্রিকেশন, মেরামত ও সাইটের কাজের জন্য উপযুক্ত।
TIG
পাতলা স্টিল ও স্টেইনলেস স্টিলে পরিষ্কার ও নিখুঁত ওয়েল্ড দেয়। আর্গন গ্যাস, রেগুলেটর ও ফ্লো মিটার লাগে।
MIG / CO2
একটানা ওয়্যার সরবরাহ করে দ্রুত ও লম্বা ওয়েল্ডের জন্য। শিল্ডিং গ্যাস (সাধারণত সিও২ বা মিশ্রণ) লাগে, যদি না গ্যাসলেস ফ্লাক্স-কোরড ওয়্যার ব্যবহার করেন।
প্লাজমা কাটিং
কম্প্রেসড এয়ার দিয়ে স্টিল, স্টেইনলেস স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম কাটে। এয়ার কম্প্রেসার লাগে।

২. ইলেকট্রোড অনুযায়ী কারেন্ট মেলান

মোটা ইলেকট্রোডে বেশি কারেন্ট লাগে। প্রচলিত ইলেকট্রোডের সাধারণ পরিসীমা:

ইলেকট্রোডের ব্যাসসাধারণ কারেন্ট
২.৫ মিমিপ্রায় ৬০–৯৫ A
৩.২ মিমিপ্রায় ৯০–১৪০ A
৪.০ মিমিপ্রায় ১২০–১৯০ A
৫.০ মিমিপ্রায় ১৭০–২৬০ A

এমন মেশিন বেছে নিন যার সর্বোচ্চ কারেন্ট এই পরিসীমার উপরের সীমার সমান বা বেশি। নির্দিষ্ট রডের সঠিক হিসাব তার প্যাকেটে দেওয়া থাকে।

৩. বিদ্যুৎ সংযোগ দেখে নিন

সিঙ্গেল ফেজ ২২০ ভোল্টের মেশিন সাধারণ দোকান বা বাসার লাইনে চলে। বড় মেশিনে প্রায়ই থ্রি ফেজ ৩৮০ ভোল্ট লাইন লাগে। কেনার আগে স্পেসিফিকেশনে ইনপুট ভোল্টেজ দেখে নিন।

৪. ডিউটি সাইকেল বুঝে নিন

ডিউটি সাইকেল হলো ১০ মিনিটের মধ্যে কত সময় একটি মেশিন নির্দিষ্ট কারেন্টে ওয়েল্ড করতে পারে। ২০০ A-তে ৬০% মানে ৬ মিনিট ওয়েল্ড, তারপর ৪ মিনিট বিশ্রাম। লম্বা একটানা কাজের জন্য বেশি ডিউটি সাইকেল বা বড় মেশিন বেছে নিন।

৫. আর যা লাগবে

ইলেকট্রোড হোল্ডার ও আর্থ ক্ল্যাম্প, ওয়েল্ডিং হেলমেট ও গ্লাভস — এবং TIG ও MIG-এর জন্য গ্যাস রেগুলেটর ও ফ্লো মিটার।

এটি সাধারণ নির্দেশিকা। সবসময় আপনার মেশিন, গ্যাস ও ইলেকট্রোডের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলুন।